সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ১২৮ বার পিছিয়েছে। আদালত আগামী ২৭ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন।

বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী এদিন নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

ওই দিন তিনি আদালতকে জানান, তিনি তদন্তভার নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। তদন্ত চলছে। আশা করা যায়, খুব শিগগির তদন্ত শেষ হবে। এই মামলার তদন্ত বিলম্বিত হওয়ায় আদালত সেদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এদিকে, তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ নয় মাস সময়ের আরজি জানায়।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল শুনানি নিয়ে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর আদেশের জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। তবে উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দাখিল করেনি।

পরে ২৩ অক্টোবর মামলার তদন্ত শেষ করতে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট।